গাজা ও ভূমধ্যসাগরজুড়ে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে মানবাধিকারকর্মী ও সহায়তাকর্মীদের উপর দমন-পীড়নের ঘটনায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, ইসরায়েলি বাহিনী মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত বহু কর্মীকে আটক করেছে, কেউ কেউ কার্যত জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।
সম্প্রতি গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামে একটি মানবিক নৌবহর গাজায় সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে ইসরায়েলি নৌবাহিনী সেটি আটকায়। নৌকাগুলোতে ছিলেন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধা দেয়। এতে গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
এমন ঘটনার পাশাপাশি জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, ইসরায়েল তাদের বহু কর্মীকে আটক করেছে এবং অনেককে নৃশংসভাবে নির্যাতন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বন্দিদের মধ্যে কিছুজনকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইন সরাসরি লঙ্ঘন।
গাজার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষ্যে তারা বলেছেন, বন্দিদশায় তাদের মারধর, অপমান এবং যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। হাসপাতাল দখল করে সেখানে সেনা অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, যার ফলে রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং মানবিক পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থা এসব কর্মকাণ্ডকে “যুদ্ধাপরাধ” আখ্যা দিয়েছে। অ্যামনেস্টির মতে, মানবিক কর্মীদের জিম্মি হিসেবে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সকল বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বহু দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন ইসরায়েলকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের মতে, মানবিক সহায়তা অবরুদ্ধ করা এবং কর্মীদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলা শুধু আইনবিরোধী নয়, বরং পুরো অঞ্চলের মানবিক সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা ও অবাধ কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের দমনমূলক কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গাজার লাখো মানুষের জীবন আরও হুমকির মুখে পড়বে।
