গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বেলা ১টার দিকে মিকেনো নামের একটি নৌকা গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে। এটি গাজা উপকূল থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নৌবাহিনী গাজামুখী নৌকাগুলো আটকে দিচ্ছে। তবে মিকেনোর মতো আরও কয়েকটি যান উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বেলা ১টা পর্যন্ত ২৪টি নৌকা গাজা অভিমুখে যাত্রা করছিল।
গাজা অভিমুখী একটি নৌযানে (কনশেন্স ফ্লোটিলা) আছেন বাংলাদেশি অধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। বেলা ১টার দিকে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে জানান, বহরের সবশেষ নৌযান এটি। গ্রিসের কৃর্তপক্ষ এরই মধ্যে ঝড়ের সতর্কতা দিয়েছে। ক্যাপ্টেন গতিবেগ বাড়িয়েছেন যাতে আমরা ঝড়ের আগেই এগিয়ে থাকতে পারি। গতরাতেও (বুধবার) আমরা ঝড়ের মুখে পড়েছিলাম। আমরা ফ্লোটিলার অন্যান্য নৌযান থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আছি। সামনের দলগুলো ইতোমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়েছে। আমরা ভয়ভীতিতে বিচলিত না হয়ে গাজার পথে অগ্রসর হচ্ছি।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় প্রায় ৫০টি নৌযান ছিল। এতে ছিলেন বিভিন্ন দেশের ৫০০ জন কর্মী। তারা গাজার বাসিন্দাদের জন্য প্রতীকী পরিমাণের মানবিক সহায়তা, যেমন- খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে যাচ্ছেন। তবে বুধবার রাতে ইসরায়েলি বাহিনী ১৩টি যান সাগরে আটকে দেয়। আটক করে দুই’শর বেশি অধিকারকর্মীকে। তাদের মধ্যে আছেন সুইডেনের রাজনৈতিক অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।
জর্ডান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আটককৃতদের ছবি প্রকাশ করেছে। তাদের ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যেসব নৌযান এখনো চলছে, সেগুলো ইসরায়েলি জাহাজের কাছাকাছি যাওয়া মাত্রই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। আটক কিংবা হয়রানি এড়ানোর জন্য অনেক কর্মী তাদের মোবাইল ফোন সাগরে ফেলে দিচ্ছেন। ফলে নৌযানে থাকা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হচ্ছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটককৃতরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। তাদের ইউরোপে ‘নির্বাসন প্রক্রিয়া’ শুরু হবে।
