ইউরোপের তিন দেশে কর্মী পাঠানোর জটিলতা নিরসনে ছয় দাবিনিজস্ব প্রতিবেদকসার্বিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও মলদোভায় কাজের সুযোগ এবং বৈধ ভিসা পাওয়ার পরও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছেন শত শত বাংলাদেশি কর্মী। এ পরিস্থিতি নিরসন এবং জনশক্তি ছাড়পত্র (ম্যানপাওয়ার) প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর দাবিতে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে ইউরোপ ভিসা প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনটির নেতারা।সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সমন্বয়ক মো. তুহিন বলেন, “আমরা কোনো অনিয়ম বা অবৈধ প্রক্রিয়ার দাবি করছি না।
যারা সম্পূর্ণ বৈধভাবে ভিসা ও চাকরির সুযোগ পেয়েছেন, তাদের বিদেশে যাত্রার পথ অকারণে বন্ধ রাখা হচ্ছে।”তিনি বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতি ও লাখ লাখ পরিবারের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কর্মীদের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে না রেখে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—১. ম্যানপাওয়ার কার্যক্রম শুরু: সার্বিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও মলদোভায় বৈধ ম্যানপাওয়ার বা রিক্রুটমেন্ট কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালু করা।২. বৈধ ভিসাধারীদের গমনের সুযোগ: ইতোমধ্যে বৈধ ভিসা পাওয়া কর্মীদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট দেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।৩. মেয়াদোত্তীর্ণের ঝুঁকিতে থাকা ভিসার অগ্রাধিকার: যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের সমস্যার সমাধান করা।৪. ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা: ম্যানপাওয়ার কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষতি লাঘবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।৫. সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রকাশ: কর্মী ও বৈধ রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি স্পষ্ট ও কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা।৬. ‘৫ জন সীমা’ নীতি সংস্কার: একই কোম্পানিতে পাঁচজনের বেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমোদন ও ডিমান্ড লেটার অ্যাটেস্টেশনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা।সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, একই কোম্পানিতে পাঁচজনের বেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা অযৌক্তিক প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করছে।
ভিডিও ইন্টারভিউ, ওয়ার্ক পারমিট ও এমপ্লয়মেন্ট লেটার যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচিত শত শত কর্মী বর্তমানে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।এ অবস্থায় অতিরিক্ত অনুমোদনের পরিবর্তে আগের প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সহজ ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।সংগঠনের আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহিম সরদার বলেন, প্রবাসকালীন যেকোনো ব্যক্তিগত দায়িত্ব কর্মীরা নিজেরাই বহন করতে সম্মত এবং প্রয়োজনে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিতেও প্রস্তুত। তাই অনাবশ্যক প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দ্রুত অ্যাটেস্টেশন ও ম্যানপাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা বলেন, বৈধভাবে ভিসা ও চাকরির সুযোগ পাওয়া কর্মীদের স্বার্থ বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

