ফরহাদ আহমদ : লামা উপজেলার রূপসীপাড়া আর্মি ক্যাম্প থেকে টিয়ারঝিরি মার্মা পাড়া পর্যন্ত মাত্র পাঁচ কিলোমিটার সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার পাহাড়ি-বাঙালি বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে; দৈনন্দিন জীবনযাপন থেকে জরুরি পরিস্থিতিতেও মানুষ পড়ছে অসহনীয় ভোগান্তিতে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাস্তা না থাকায় রোগীদের হাসপাতালে নিতে এখনো বাঁশের খাটিয়ায় কাঁধে ঝুলিয়ে পাহাড়ি পাথুরে পথ পাড়ি দিতে হয়। চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আগেই অনেক সময় রোগীর অবস্থা মারাত্মক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই পরিস্থিতি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

ভোগান্তির শিকার শুধু অসুস্থ মানুষই নয়—কৃষকরাও। এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সড়ক না থাকায় পাহাড়ি পথে কাঁধে বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট করে ফসল বহন করতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি অনেক পণ্য নষ্টও হয়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষকের আয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“দশকের পর দশক ধরে আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে আসছি। কিন্তু আমাদের কষ্টের কথা যেন কেউ শোনে না। পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা হলে আমাদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যেত।”

এলাকার মানুষদের প্রশ্ন—
কখনো কি তাদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ঘুচবে?
একটি সড়কের অভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা—সবই থমকে আছে।

স্থানীয়রা দ্রুত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।