বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমরা স্মরণ করি এক মহান শিক্ষকের, যিনি নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে রেখে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন—মাহেরিন চৌধুরী।
২০২৫ সালের ২১ জুলাই ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে একটি বিমান দুর্ঘটনার ফলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ধোঁয়া আর আগুনের মধ্যে অসংখ্য ছাত্র–ছাত্রীরা আটকা পড়ে। মাহেরিন চৌধুরী নিজের জীবন বিপন্ন করেও অনেক ছাত্রকে উদ্ধার করেন। অসংখ্যবার দগ্ধ শ্রেণীকক্ষে ঢুকে পড়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। দুঃখজনকভাবে, তিনি শেষ পর্যন্ত নিজেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
তার ত্যাগ শুধু তার ছাত্রদের নয়, পুরো জাতির কাছে শিক্ষা ও মানবতার অসাধারণ উদাহরণ হয়ে রয়ে গেছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিজের সন্তানদের কথা ভেবে তার হিম্মতও ন্যায়পরায়ণ ছিল। তাঁর শেষ কথায় প্রকাশ পায় শিক্ষার প্রতি অগাধ ভালোবাসা—“তারা ও আমারই সন্তান, তারা শক্ত হয়ে উঠুক।”
সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাঁর স্মৃতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সীমান্ত গার্ড বাংলাদেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গ্রামের মানুষরা মাহেরিনকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এছাড়াও পরিকল্পনা রয়েছে তার নামে একটি পুরস্কার চালু করার—যার মাধ্যমে শিক্ষকদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার উদাহরণ তুলে ধরা হবে।
মাহেরিন চৌধুরীর ত্যাগ শুধু এক ব্যক্তির ইতিহাস নয়; এটি শিক্ষকের কর্তব্য, মানবতার পথ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার দৃঢ় বার্তা। আজকের বিশ্ব শিক্ষক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একজন শিক্ষকের ত্যাগ ও সাহসই সত্যিকারভাবে শিক্ষার সার্থকতা প্রতিষ্ঠা করে।
