জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থীসংসদ (জাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও বট আইডিতে অপপ্রচার সক্রিয় হয়েছে।
সম্প্রতি এই প্রচারণার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ইমন।
ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী। হঠাৎ করেই পাঁচ বছর পর, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, কিছু ভুঁইফোড় পোর্টালে দাবি তোলা হয় যে তিনি অবৈধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলোয়াড় কোটায় ভর্তি হয়েছেন। তবে এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
শারীরিক শিক্ষা বিভাগ জানায়, খেলোয়াড় কোটায় ভর্তির প্রাথমিক শর্ত হলো বিকেএসপি বা জাতীয় দলের খেলোয়াড় হওয়া। তবে জাতীয় দলে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মানদণ্ড রয়েছে। কেউ অনূর্ধ্ব–১৭, ১৮ বা ১৯–এর বিভিন্ন স্কোয়াডে থাকতে পারেন।এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রথম বিভাগ ও প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দেরও ভর্তির জন্য সুপারিশ করতে পারে ব্যবহারিক পরীক্ষা কমিটি।
ইমন প্রথম বিভাগ ক্রিকেটার ছিলেন। তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের খেলোায়ড় কোটায় ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ভর্তি হন। পরীক্ষায় উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষরিত নথিও এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।নথি অনুযায়ী,০৬/০১/২০২০ তারিখ দুপুর ২.০০ টায় ঐ শিক্ষাবর্ষের খেলোয়ার কোটার ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই শিক্ষাবর্ষে খেলোয়াড় কোটায় ভর্তি হওয়া ১১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন বিকেএসপি থেকে এসেছিলেন।
এ বিষয়ে মেহেদী হাসান ইমন বলেন, “আমি ক্রিকেটার কোটায় ভর্তি হয়েছি। আবাহনীতে ক্রিকেট খেলেছি। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম বিভাগে সেখানে খেলেছি। তবে ভর্তি হওয়ার পর ইনজুরি আর ছাত্রদল করার কারণে হলে থাকতে না পারায় খেলা চালিয়ে যেতে পারিনি।
” শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক বেগম নাসরিন বলেন, “খেলোয়াড় কোটায় ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের নাম ব্যবহারিক পরীক্ষা কমিটি কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির কাছে সুপারিশ করে। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সেই তালিকা অনুমোদন দেয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা কমিটির সুপারিশ ও কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির অনুমোদন ছাড়া খেলোয়াড় কোটায় ভর্তি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি আরও জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ইনজুরি কিংবা পারিবারিক কারণে কোনো খেলোয়াড় খেলা চালিয়ে যেতে না পারলে বিভাগকে অবগত করলে তাকে বিবেচনায় নেয়া হয়।”
