মোঃ মুসাঈদুর রহমান : বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) এবং দেশীয় রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান ডুবোটেক ডিজিটাল লিমিটেড দেশের সামুদ্রিক প্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করতে একটি যৌথ উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল (ROV), স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামুদ্রিক প্রযুক্তির উন্নয়নে দুই প্রতিষ্ঠান একসাথে কাজ করবে। এতে বাংলাদেশের নীল অর্থনীতিতে (Blue Economy) নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গতকাল (মঙ্গলবার) বিএমইউর কনফারেন্স রুমে এই পার্টনারশিপের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কমান্ডার মোহাম্মদ ইরফান মাহদী এবং ডুবোটেক ডিজিটাল লিমিটেডের পক্ষ থেকে সিইও মো. নাঈম হোসেন সৈকত ও সিওও মো. মাহফুজুল হক।

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি দেশের একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা বাংলাদেশের মেরিটাইম খাতের একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় এবং বিশ্বের দ্বাদশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, যা সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও নীতিগত সহায়তায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিনির্ভর মেরিটাইম শিল্প গঠনের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

নতুন এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি উন্নয়নে যৌথ গবেষণা প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। বিএমইউর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ডুবোটেকের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি কাজের সুযোগ পাবেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং উদ্ভাবনী প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রযুক্তি উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।

ডুবোটেক ডিজিটাল লিমিটেড গত আট বছর ধরে বাংলাদেশের আন্ডারওয়াটার ও সামুদ্রিক রোবোটিক্স খাতে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের তৈরি রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির জন্য স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি শিল্প, পরিবেশ ও প্রতিরক্ষা খাতে প্রয়োগযোগ্য উন্নত রোবোটিক্স সিস্টেম তৈরি করছে। তাদের লক্ষ্য হলো—বাংলাদেশে একটি টেকসই মেরিটাইম টেকনোলজি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্প একসাথে অগ্রসর হবে।

ডুবোটেকের সিওও মো. মাহফুজুল হক বলেন, “এই সহযোগিতার মাধ্যমে বিএমইউর শিক্ষার্থীরা বাস্তব প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাবে, যা তাদের হাতে-কলমে দক্ষতা বাড়াবে। আমরা চাই, এই উদ্যোগ থেকে এমন এক প্রজন্ম গড়ে উঠুক যারা ভবিষ্যতে দেশের সামুদ্রিক প্রযুক্তি শিল্পে নেতৃত্ব দেবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সামুদ্রিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। দেশীয়ভাবে তৈরি রোবোটিক্স প্রযুক্তি সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধান, তলদেশ পর্যবেক্ষণ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করবে। পাশাপাশি স্থানীয় গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পখাতে টেকসই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হবে।