মোহাম্মদ ইমরান, বোয়ালমারী : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এনসিপি নেতা ও ফরিদপুর-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হাসিবুর রহমান অপুর পিতা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বজলুর রহমান ঠাকুরের উপর সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অপুর ছোট চাচা আজিজুর রহমান ঠাকুর বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার চতুল ইউনিয়নের আরাজী বারখাদিয়া গ্রামে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এসময় ছিরু শেখ, তার ছেলে সজিব শেখ, জুয়েল শেখ, তানভীর গাজীসহ অভিযুক্তরা বজলুর রহমান ঠাকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। হামলার সময় স্ত্রী ফরিদা বেগম প্রতিরোধ করলে তাকে লাঞ্ছিত করে এবং গলায় থাকা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পাশাপাশি অপুর বসতঘরে ভাঙচুর চালিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।
আহত বজলুর রহমান ঠাকুর বলেন, “আমি সারাজীবন পুলিশের চাকরি করেছি। কারো ক্ষতি করিনি। আমার ছেলে জুলাই বিপ্লবের পর থেকে রাজনৈতিক কারণে প্রতিপক্ষের টার্গেটে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ হামলা চালানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে এনসিপি নেতা হাসিবুর রহমান অপু অভিযোগ করে বলেন, “আমার পিতার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। নির্বাচনী জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে আমাদের মনোবল ভাঙা যাবে না। আমরা জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবো।” তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
