দেশবরেণ্য লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের প্রয়াণে দেশের সংগীতাঙ্গন গভীর শোকে ভাসছে। দীর্ঘকাল ধরে লালনসঙ্গীতকে জন-উদ্বুদ্ধ করে রাখায় এবং তাঁর অভিব্যক্তিময় কণ্ঠের কারণে শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেওয়া ফরিদা পারভীনের চলে যাবার খবর সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে শূন্যতার সঞ্চার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্পী ও ভক্তরা শোকপ্রকাশ করেছেন এবং স্মৃতিচারণে ভাসছেন।

জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদও সামাজিক আবেগ উজাড় করে এক স্মৃতিচারণে লিখেছেন—

“কী লেখা উচিত বুঝতে পারছি না। কেউ দেখা হলেই বলে তোমার মা, বাবা শুনলেই কান্না আসে। অথচ আপনাকে জানানোই হলো না ৭/৮ বছরের একটা ছেলে ‘তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির নাম’ শুনলেই কেঁদে ফেলত। এখনো… প্রিয় ফরিদা পারভীন আপা।”

প্রিন্স মাহমুদের এই কথাগুলোতে ফুটে উঠেছে ফরিদা পারভীনের গানের সেই শক্তি—কেরকমভাবে একটি গীতিকা কিংবা সংগীতের লাইন শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত কাঁদাতে বা ভাবাতে পারে। ছোট্ট এক শিশুর চোখে যখন শিল্পীর সৃষ্টি এত গভীর ছাপ ফেলতে পারে, তখন বুঝা যায় এই শিল্পীর কণ্ঠ ও ভগ্নস্বরে যে সামাজিক ও আবেগগত সংমিশ্রণ তৈরি হয়েছিল, তা কেবল ঐতিহ্য নয়—মানবিক সংবেদনশীলতার একটি জাগরিত পরিচয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্পী ও সাধারণ মানুষ—অনেকেই ব্যক্তিগত স্মৃতি, কনসার্ট ও রেকর্ডিংয়ের মুহূর্ত শেয়ার করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অনেকেই লিখেছেন, ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে লালনগীতি শুধু গান নয়—এক একটি জীবনদর্শন, এক রকম আত্মার আভাস ছিল। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বলছেন, তাঁর প্রয়াণ দেশীয় লোকসংগীতে এক বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।

ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে লালনগীতির বহুমাত্রিকতা, ভাববৈচিত্র্য ও গ্রামীণ সংগীত জীবনের সঙ্গে সমন্বয় ছিল স্পষ্ট—যা প্রজন্মের পর প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হয়ে আসছে। আজ এই শূন্যতাকে পূরণ করা সম্ভব নয়; কিন্তু তাঁর গাওয়া গান ও অনুভূতি ভবিষ্যতেও শ্রোতাদের সঙ্গে জীবন্ত থাকবে।