শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন তথা ৫ আগস্ট ফরিদপুরের সদরপুর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র নিয়ে তিন বন্ধুর টিকটিক করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন পলাশ হোসেন নামের এক যুবক। আজ সোমবার (১২ আগস্ট) সকাল ৬ ঘটিকায় ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট সকালে পলাশ তার বাবার হোটেলে কাজ করছিলেন। তার বাবা মোশারফ হোসেন। তিনি এক খাবার হোটেলের মালিক। তার ছেলে পড়ালেখার পাশাপাশি হোটেলে বাবাকে সময় দিতো৷ উপজেলার আটরশি মোড়ে তাদের দোকান। এ সময় তার দুই বন্ধু সদরপুর সরকারি কালেজের একাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী পলাশকে হোটেল থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তারা আড়াই রশি গ্রামে পলাশের নানা মোসলেম মাতুব্বরের বাড়িতে যান। সে বাড়িতে এক কক্ষে তারা তিন জন লুট করে নিয়ে আসা একটি শর্টগান নিয়ে টিকটক ভিডিও করার জন্য অস্ত্রটি একে অপরের মাথায় তাক করে অভিনয় করতে থাকেন। হঠাৎ করে শটগান থেকে একটি গুলি পলাশের মাথায় লাগে। গুলির শব্দ আর সবার চিৎকার শুনে আশেপাশে থাকা বাড়ির লোকজন ছুটে যান সেই কক্ষে। কক্ষে গিয়ে সবাই দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পলাশ বিছানার উপর।
পলাশকে প্রথমে আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারপর শারীরিক অবস্থা আরো অবনতি হলে নিয়ে যাওয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। তারপর তাকে ফরিদপুর থেকে সরাসরি নিয়ে আসা হয় ঢাকার ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে। সেখানে ৬ দিন আইসিউতে থাকার পর আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি।
সদরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পলাশের মা পারুলী আক্তার বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পলাশের মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ হত্যা মামলাটি তদন্ত করলে জানা যাবে থানা থেকে লুট করে নেওয়া অস্ত্র দিয়ে বন্ধুরা টিকটক করতে গিয়ে গুলি বের হয়ে পলাশ মারা গেছেন নাকি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
