এপ্রিল 17, 2021

ধামরাইয়ে ভুল অপারেশনে রোগীর মৃত্যু, বিচার দাবিতে হাসপাতাল ঘেরাও

0 0
Read Time:9 Minute, 34 Second

আশরাফুল ইসলাম : মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার ধামরাইয়ে আজাহার জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্ট্রারে ভুল অপরেশনে শাহিনা আক্তার নামে এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিচার দাবিতে হাসপাতালটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে নিহত ওই রোগীর পরিবারের লোকজন। হাসপাতাল র্কৃপক্ষ কোন উপায়ন্ত না দেখে শেষমেষ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য নিহত রোগীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দফায় দফায় সমজোতা বৈঠক করছেন নাম সর্বস্ব ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিহতের পরিবার বলেছেন ভুল অপারেশনের কারণেই শাহিনা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশকে জানালে ময়নাতদন্তে মরদেহ কাটাছেড়া করা হবে এমন ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমেই থানায় অভিযোগ করতে বারণ করা হচ্ছে আমাদের। এদিকে হাসপাতাল কতৃপক্ষও ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর কথা অকপটে স্বীকার করে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে সমঝোতা করার কথা জানান।

এ ভুল অপরেশনে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে স্বাস্থ্যবিধি ও হাসপাতাল কোড অমান্য করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর ঘেষে প্রতিষ্ঠিত আজাহার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্ট্রারে। নিহত শাহিনা আক্তার (৪৬) পৌরসভার ইসলামপুর এলাকার মৃত বেনু মিয়ার মেয়ে। সে তার বড় বোন ও দুলা ভাইয়ের পরিবারের সাথে বসবাস করতেন। হঠাৎ তিনি গুরুতর অসূস্থ হয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তাকে ইসলামপুর সরকারি আবাসিক হাসপাতালে নেয়ার পথিমধ্যে দালালরা জোর করে নাম সর্বস্ব আজাহার জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়গনেস্টিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। এরপর বেলা ৩টার দিকে কোন প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা না করেই ওই রোগীর অপারেশন করা হয়। তাও অনভিজ্ঞ ও ইন্টার্নি সার্জন দিয়ে।

অপারেশনের পরই প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয়ে ওই রোগীর মৃত্যু ঘটে। পরিবারের সদস্যদের কনো কিছু বুঝতে না দিয়ে বলা রোগীর সংজ্ঞা ফিরতে সময় লাগবে। কেউ রোগীকে ডাকাডাকি করবেন না। বিকাল ৫টার দিকে রোগীর কাছে আসবেন। সকাল ৫টা পেরিয়ে গেলেও রোগীর সংজ্ঞা না ফিরে আসলে স্বজনদের মনে সঙ্গত কারণেই সন্দেহের দানা বাঁধে। তখন তারা ওই রোগীকে নিয়ে যায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে মৃত বলে ঘোষণা করে।বিষয়টি রোগীর স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা বিচার দাবিতে আজাহার জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনিস্টিক সেন্টার ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। এ বিষয়ে নিহতের বড় বোন ফিরোজা বেগম বলেন, বোনেরতো পিত্তথলিতে পাথর হয়েছিল। হাসপাতালে এনেই আমার বোনকে অজ্ঞান করা হয়। এরপর আর বোনের জ্ঞান ফিরে আসেনি। ভুল অপারেশনে আমার বোনের অকাল মৃত্যু হল। আমরা এর কঠোর শাস্তি ও বিচার চাই।

ভগ্নিপতি এমদাদুল হক বলেন, ‘আজ থেকে ২০ বছর আগে তার লাঞ্চের অপারেশনকরা হয়েছিল। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়েছিল। তখন ওই হাসপাতালে তার অপরেশন করতে সাহস পাইনি চিকিৎসকরা। এ হাসপাতালে কিভাবে ডাক্তার এ রোগীর অপারেশন করল তা কেবল ওই ডাক্তারই বলতে পারবে। দালালদের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা চুক্তিতে এ অপারেশনের করা হয়। এব্যাপারে আমাদের কোন মতামত পর্যন্ত প্রয়োজন হয়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন,‘স্যার আমাকে বললেন রোগীটা একটু ক্রিটিক্যাল খেয়াল করবেন। স্যার আমাকে বললেন এখানেই থাকেন অপারেশন দেখেন। পরে স্যার অপারেশন শুরু করলেন আমি ওখানেই দাঁড়িয়ে থেকে দেখলাম পুরা অপারেশটা। আমিতো ভাবছি অপারেশন শেষ, এভেবে ওটি থেকে চলি আসছি। এক ঘন্টা পর আমাকে স্যার ডাকলেন। আমি যেয়ে দেখি স্যারদের যেভাবে পূর্বে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছি তারা ওভাবেই দাঁড়িয়ে আছেন। স্যার আমার দিকে তাকালেন, কিন্তু কিছু বললেন না। তো আমি একটু ঘাবড়ে গেলাম যে, এতক্ষণ পরও রোগীর জ্ঞান ফিরেনি বা স্যাররা এভাবে দাঁড়িয়ে আছে কেন! তখন এনেসথেসিয়া স্যার বললেন, রোগী রেফার্ড করতে হবে বক্ষ ব্যধি হাসপাতালে। দ্রুত কাগজপত্র রেডি করেন। পরে স্যার নিজেই সব লিখে দিলেন।’এরপর রোগী হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায় স্বজনরা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালে গেলে মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। হাসপাতালের অনুমোদনের কাগজপত্র দেখতে চাইলে কতৃপক্ষ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এছাড়া নিয়মের তোয়াক্কা না করেই আইসিইউ ছাড়াই অপারেশন থিয়েটার কেন চালু রেখেছেন সে বিষয়েও সদোত্তর দিতে পারেননি হাসপাতাল কতৃপক্ষ।শুধু তাই নয় সরকারি হাসপাতালের ধারেকাছে কোন বেসরকারি হাসপাতাল করার কোন বিধিবিধান নেই বলে জানালেন,সরকারি আবসিক হাসপাতালের পঃপঃ কর্মকর্তা ডা.নুর রিফফাত আরা।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান সোহেল খান বলেন, রোগীর পেটে পাথর ছিল। একজন সার্জন তার ল্যাপরোসকপি করেছেন। আমাদের এখানে আইসিইউ সাপোর্ট নাই বিধায় অপরেশনের পরে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় আমরা রোগী রেফার্ড করেছি এনামে। ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর দ্বায়ভার কার এমন প্রশ্নে জবাবে বলেন, ‘এটা ভাই আমি অবগত নই। এ বিষয়টা আমি জানি না। তবে দ্বায়ভার আমার অবশ্যই, জানাটা আমার উচিত ছিল। নিহতের পরিবার আমাদের আত্মীয়ও হয়। আমরা সামাজিক ভাবে বইসা বিষয়টি নিষ্পত্তি করব। কারণ হায়াত মউততো আল্লাহর হাতে।

এই বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, এ ধরণের কোন ঘটনার অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে কেউ অভিযোগ করলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এই বিষয়ে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ নুর-রিফফাত আরা বলেন, আমাদের স্বপ্রনাদিত হয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। ওই ক্লিনিকে আমরা রুটিন মাফিক ৪বার পরিদর্শন করেছি। তবে এদের বিরুদ্ধে এখন ব্যবস্থা নিতে লিখিত অভিযোগ লাগবে।’প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আজাহার ক্লিনিকের এখনও লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। আমরা সুপারিশ করেছি দেয়ার জন্য। ওদের আইসিইউ ও সিসিইউ সিস্টেম নেই। ওটিতেও সমস্যা ছিলো, সেটা সমাধান সাপেক্ষে ওদের হাসপাতাল অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %