এপ্রিল 17, 2021

ধামরাইয়ে দুই গ্রুপের রক্তাক্ষয়ী সংঘর্ষ-ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্র

0 0
Read Time:5 Minute, 21 Second

আশরাফুল ইসলাম : ঢাকার ধামরাইয়ের মাখুলিয়া এলাকায় বিদ্যমান দু’দলের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভেকু মেশিন দিয়ে নদী সিকস্তি ভুমির মাটি কেটে “কাইজেন গ্রুপের আকসির আবাসিক প্রকল্পের” রাস্তা নির্মাণে ওই সিকস্তি ভুমির মালিকরা বাঁধা দেওয়ায় এ সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ছুরিকাঘাত সহ কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদের মধ্যে পিতাপুত্র সহ ৩জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান,উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের মাখুলিয়া এলাকার মোঃ হযরত আলী,মোঃ মুনসুর আলী ও বনজন রায় নদী সিকস্তি ১০০শতাংশ জমি জমিদারি আমলের পাট্টা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আমলে লিজমূলে ভোগদখল করে আসছেন দীর্ঘ্যদিন ধরে। শনিবার বিকাল ৫টার দিকে কাইজেন গ্রুপের ভেকু মেশিন ও স্থানীয় হোমরা চোমরা লোকজন নিয়ে এসে জোর করে ওই সিকস্তি ভুমির মাটি কেটে নিয়ে কাউজেন গ্রুপের আকসির আবাসিক প্রকল্পে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণ শুরু করে। খবর পেয়ে ওই তিন পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় জোর করে মাটি কাটায় বাঁধা প্রদান করেন।

এ ওই নিরিহ জমির মালিকরা কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই ক্ষিপ্ত হয়ে কাইজেন গ্রুপের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এরপর বিদ্যমান দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় চলে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে যায়। এতে মোঃ হযরত আলী(৪৫),তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার(৩২) মোঃ মুনসুর আলী,(৫২),বনজন রায়,(৪২),অনন্ত রায়(২৫) ও কাইজেন গ্রুপের ছুরিকাহত ইয়াছিন আরাফাত সহ কমপক্ষে ১০জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বনজন রায় ও অনন্ত রায়ের অবস্থা খুবই শোচনীয় বলে জানা গেছে।

এঘটনায় কাইজেন গ্রুপ উল্টো থানায় মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে সিকস্তি ভুমির মালিক মোঃ হযরত আলীকে গ্রেফতার করিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে। হামলার শিকার ওই তিন পরিবারের সদস্যরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছে। তাদের মাঝে বিরাজ করছে চরম গ্রেফতার আতংক।

এব্যাপারে কাইজেন গ্রুপের মুখপাত্র মোঃ তৌহিদুর রহমান তৌহিদ বলেন,মাখুলিয়া খেয়াঘাট মোড় ও জামে মসজিদের সামনের রাস্তা খুবই সংকীর্ণ। অহরহ এ স্থানে ঘটে থাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাই দুর্ঘটনা থামাতে রাস্তা প্রশস্ত করতে আমাদের প্রকল্পের ভেকু মেশিন নিয়ে স্থানীয় লোকজনই মাটি কেটে এনে রাস্তায়ই ফেলছে। এছাড়া আশপাশে কোথাও মাটিও নেই। তাই এলাকাবাসী এস্থান থেকেই মাটি কেটে তা রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা বাঁধা না দিলে কোন ঘটনাই ঘটতনা। এরজন্য তারাই দায়-ই।

এব্যাপারে গ্রেফতার হওয়া হযরত আলীর স্ত্রী আকলিমা আক্তার বলেন,ভাই ভেকু মেশিন দিয়ে আমাদের লিজকৃত জমির মাটি কাটায় বাঁধা দেয়ায় আমাদের ওপর হামলা করল। আবার ক্ষমতা ও টাকার জোরে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আমার স্বামীকে পুলিশে ধরিয়ে দিল। এত জুলুম আল্লাহ সইবেনা। আল্লাহ একদিন এর বিচার অবশ্যই করবে।

উপ-পুলিশ পরিদর্শক(এসআই) জসীম উদ্দিন বলেন,পুলিশ কারও শত্রু নয়। পুিলশ জনগণের প্রকৃত বন্ধু। হযরত আলীও আমার শত্রু নয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %