সুব্রত ঘোষ, বগুড়াঃ
জ্বালানি ব্যবহার না করেই ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতা এসেছে বগুড়ায়। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বগুড়া শহরতলীর এরুলিয়া ইউনিয়নের বামদিঘী এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রযুক্তি কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় এবার ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ মেগাওয়াটের একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মিললে তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। ইতিমধ্যে বগুড়ার এরুলিয়ার বামদিঘী এলাকায় এ পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্টটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।
গবেষকরা জানান, আর কিছু নতুন যন্ত্রপাতি যুক্ত করা সম্ভব হলে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটিকে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদনমুখী রূপ দেয়া সম্ভব হবে।

পরিবেশবান্ধব ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি ছাড়াই সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ উৎপাদন। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সা। প্রস্তাবিত বাজেট হিসেবে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্ল্যান্টের জন্য খরচ হতে পারে ২৫ কোটি টাকা। গবেষকদের মতে, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে যেখানে ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়, সেখানে এ প্রযুক্তিতে খরচ চার ভাগের এক ভাগ। তাছাড়া এটি আবহাওয়া বা সূর্যালোকের ওপর নির্ভর করে না।
প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং জলবায়ু ট্রাস্টে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক জানান, ২০০৪ সাল থেকে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হলেও ২০১০ সালের পর গবেষণায় নতুন গতি আসে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে জ্বালানিহীন এই প্রযুক্তির ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
আরডিএর উপপরিচালক কৃষিবিদ ইঞ্জিনিয়ার ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সাল থেকে তারা এটি নিয়ে পুরোদমে গবেষণা করছেন। মাঝখানে আর্থিক সংকটে কাজ কিছুটা মন্থর হলেও আরডিএর সহযোগিতায় আবার তা শুরু হয়। ২০২৫ সাল থেকে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ ও সরঞ্জাম পেলে এটি খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে। এমপি রেজাউল করিম বাদশা প্রজেক্টটি ঘুরে জানান, তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ সম্ভাবনাময় উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, উদ্যোগটি সফল হলে বগুড়ার মেশিনারি খাতে নতুন গতি আসার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে কম খরচে বিদ্যুৎ পাওয়ার নতুন পথ উন্মুক্ত হবে।