সুব্রত ঘোষ, বগুড়াঃ
বগুড়ায় বেড়েই চলেছে এইচআইভি সংক্রামন রোগীর সংখ্যা। এদের মধ্যে বেশির ভাগ রোগীর বয়স ২৪ বছর থেকে ৩০ বছর। দ্রুত এইচআইভি সংক্রামনের কারনে জনমনে প্রতিক্রিয়া এবং উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে এইচআইভি-সংক্রান্ত জটিলতায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চলতি বছরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে ।
বগুড়ায় গত ১৯ মাসে পরিচালিত এইচআইভি পরীক্ষায় ২ হাজার ১৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুইজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি রয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশ রোগীর বয়স ২৪ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। একই সময়ে এইচআইভি-সংক্রান্ত জটিলতায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই মারা গেছেন তিনজন।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৯২ জনই বগুড়া জেলার বাসিন্দা। এছাড়া গত ১৯ মাসে সেন্টারটিতে চিকিৎসা ও ফলোআপের জন্য মোট ৫৯৭ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি নিবন্ধন করেছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক, একাধিক যৌনসঙ্গী, পুরুষে-পুরুষে যৌন সম্পর্ক, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত সুঁই বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে এইচআইভি সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষা করাতে আসেন। কারও শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়লে তাকে তাৎক্ষণিক কাউন্সেলিং দেওয়া হয় এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এইচআইভি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, এইচআইভি শনাক্ত হওয়ার পর অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। নিয়মিত কাউন্সেলিং রোগীদের হতাশা কাটিয়ে চিকিৎসায় আগ্রহী হতে সহায়তা করে। অন্যদিকে শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. সুলতান ইবনে সাঈদ জানান, প্রতিরোধই এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিরাপদ যৌন আচরণ, প্রতিবার সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার, পরীক্ষা ছাড়া রক্ত গ্রহণ না করা এবং অন্যের ব্যবহৃত সুঁই বা সিরিঞ্জ ব্যবহার থেকে বিরত থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি এইচআইভি আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য দূর করে চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সচেতন মহল মনে করেন, পারিবারিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসনের অভাবেই যুব সমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। সামাজিক ভাবে যুবসমাজকে সচেতন করতে হবে। নতুবা সমাজে এইচআইভি দ্রুত ছড়িয়ে পরবে।
সুব্রত ঘোষ
বগুড়া