গাজী কুদ্দুছুর রহমান সোহাগ
কুমিল্লা প্রতিনিধি।
কুমিল্লার নবগঠিত বুড়িচং পৌরসভার আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে ঘিরে পূর্ণমতি ৪ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো এনামুল হক আগামী কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিএনপি’র এই ত্যাগী নেতা বুড়িচং সদর ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।দায়িত্ব পালন করেন সাহেবাবাদ ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্র সংসদের সাবেক সদস্য হিসেবে। বিএনপি’র দুঃসময়ে ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও মামলা হামলা শিকার হন।শিক্ষা জীবনের মাঝামাঝি সময়ে যোগদান করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী তে। পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করায় পেয়েছেন সম্মানজনক
নৌবাহিনী পদক।কর্তব্যনিষ্ঠা,সাহসিকতা, এবং বিচক্ষণ চৌকস কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে কাজ করেছেন ডিজিএফআই তে।মো এনামুল হক অতীতে ছাত্র রাজনীতি তে সক্রিয় থাকার কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এই নেতা ছাত্র জীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার কারনে ক্ষমতাচ্যুত
আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে পরে স্বেচ্ছায় নৌবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বিএনপির দুঃসময়ে তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং বিভিন্ন সংকটে সাধ্যমত তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মো এনামুল হক নিজ এলাকায় পূর্ণমতি ৪নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও ধানের শীষের পক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে বুড়িচং পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। ২০২৬ সালের ১২ ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কুমিল্লার- ৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন এমপি কে বিজয়ী করার লক্ষ্যে দিনরাত নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। পাড়া মহল্লায় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়েছেন।এবং কেন্দ্রে গিয়ে প্রার্থীকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।এবং প্রাপ্তিকে বিজয়ী করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।পাশাপাশি তিনি ৪নং ওয়ার্ডের যুবসমাজ কে নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার কারণে তিনি যুব সমাজের কাছে আইকন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষ কেন সহায়তায়, শীতবস্ত্র বিতরণ, মেধাবী ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য উপহার প্রদান, এবং নিজস্ব অর্থায়নে ৪ নং ওয়ার্ডের পাড়া- মহল্লায় ২০টি সোলার লাইট প্রতিস্থাপন করেন।এছাড়া মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধেও তাকে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে।
স্থানীয় এলাকার প্রান্তিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মো এনামুল হক কে অনেকেই পরিবারের একজন সদস্যের মতো মনে করেন। তাদের ভাষ্য, যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে তার কাছে গেলে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি শুনে সমাধানের চেষ্টা করেন। স্থানীয় তৃণমূলের নেতাকর্মী ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে থানা,ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কোনো আইনি বা নাগরিক সমস্যার দ্রুত সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।এসব কারণে আসন্ন বুড়িচং পৌরসভার নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে তাকে একজন শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ধারণা বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির একক প্রার্থীর বিকল্প নাই। বিএনপিকে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং একক প্রার্থী সমর্থন দিতে হবে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনী আলোচনায় মো এনামুল হক তুলনামূলক ভাবে এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা।
মো এনামুল হক বলেন, ৪নং ওয়ার্ডের সাধারণ ও প্রান্তিক জনগণের আশা-আকাঙ্খা ও দাবি পূরণে গণমানুষের বন্ধু হয়ে কাজ করে যাবো।আমি কাউন্সিলর হিসেবে নয়,জনগণের সুখ-দুঃখের বন্ধু হিসেবে, তাদের সেবক হিসেবে পাশে থাকতে চাই। ওয়ার্ডবাসীর সেবা করার সুযোগ পেলে হতদরিদ্র পরিবারের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়ন, নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, যৌতুক প্রথা রোধসহ মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড উপহার দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।এলাকার মানুষের সমন্বয়ে সকলের পরামর্শে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও দাবি পূরণে নিরলসভাবে ওয়ার্ডের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পয়নিস্কাসন ব্যবস্থাসহ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজ করে যাবো। যদি ৪নং ওয়ার্ডবাসী আমাকে সুযোগ প্রদান করে এবং আমি জনগণের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে ভোটের মাধ্যমে কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে পারি তাহলে পূর্ণমতি ৪নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য, মাদক মুক্ত দুর্নীতিমুক্ত, মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।
উপজেলা বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, এলাকায় জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও আন্দোলন- সংগ্রামে ভূমিকা—তিনটি মানদণ্ড প্রার্থী বাছাই করে জনপ্রিয়তা বিবেচনায় প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে।তবে প্রার্থীদের কে ভোটারদের আস্থা অর্জন করে জয়ী হতে হবে। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কারো সুযোগ নেই। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।উল্লেখ্য এই ওয়ার্ডে বিএনপির আরো
মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক প্রার্থী আছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের এখনো প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে দেখা যায় নি। তবে যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে ব্যানার ফেস্টুন করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ওয়ার্ডের এখনো জামায়াত ও এনসিপির কোন কাউন্সিলর প্রার্থী কে মাঠে প্রচার-প্রচারণা করতে দেখা যায়নি।
