রাহাত শরীফ
গোপালপুর উপজেলা প্রতিনিধি (টাঙ্গাইল)
১৯ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঢাকা-তারাকান্দি মহাসড়কের নয়াপাড়া-শাখারিয়া সংলগ্ন যমুনা নদীতে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনের ফলে হাজার হাজার বিঘা আবাদি ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা কৃষিজমি, বিভিন্ন মৌসুমি ফসল এবং গাছপালা মুহূর্তের মধ্যেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক তাদের একমাত্র জীবিকার উৎস হারিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিনই ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। ইতোমধ্যে নদীর ভাঙন ঢাকা-তারাকান্দি মহাসড়কের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে এবং জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, জিও ব্যাগ ফেলা এবং নদীশাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শুধু হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমিই নয়, ঢাকা-তারাকান্দি মহাসড়ক, আশপাশের বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—মানুষের জানমাল, কৃষিজমি এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক রক্ষায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
