কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থেকে ঢাকায় পাঠানো একটি পণ্য পাঁচ দিনেও প্রাপকের হাতে পৌঁছায়নি। হটলাইনে ফোন করলে কেউ ধরছে না। স্থানীয় অফিস জানাচ্ছে অভিযোগ পেয়েছে, কিন্তু সমাধান নেই। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সার্জন বায়েজিদ মাহমুদের এই অভিজ্ঞতা সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস (প্রাঃ) লিমিটেডের বিরুদ্ধে বহুল অভিযুক্ত গ্রাহক হয়রানির সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

পাকুন্দিয়া থেকে গত ৩ জুন ঢাকায় পণ্য কুরিয়ার করেন বায়েজিদ মাহমুদ। আজ ৮ জুন পর্যন্ত প্রাপক পণ্যটি পাননি বলে তিনি জানিয়েছেন। অভিযোগের জন্য হটলাইনে ফোন দিলে সাড়া মেলেনি। পাকুন্দিয়া অফিসও অভিযোগ স্বীকার করলেও কোনো প্রতিকার দিতে পারেনি বলে তিনি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বায়েজিদ মাহমুদ লেখেন, “সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস (প্রাঃ) লিমিটেড-এর গ্রাহক হয়রানি চরমে। এর দ্রুত প্রতিকার হওয়া জরুরি।” পাশাপাশি তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে সরাসরি ট্যাগ করে বিচার দাবি করেছেন।

তাঁর পোস্টের মন্তব্য অংশে আরেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, চলতি বছরের ৪ মে ঢাকা থেকে একটি পার্সেল পাঠানো হলেও আজ পর্যন্ত কোনো আপডেট পাননি তিনি।

এই অভিযোগগুলো বিচ্ছিন্ন নয়। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ শাখার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়, গ্রাহক হয়রানি, হুমকি, পণ্য দেরিতে পৌঁছানো এবং পণ্য খোয়া যাওয়াসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে বলে একুশে সিলেট জানিয়েছে। প্রতিটি পার্সেল ও ডকুমেন্ট ১ থেকে ২ দিনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও গ্রাহকরা ৪ থেকে ৫ দিনেও পার্সেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। (Ekusheysylhet)

দেশের কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে ডেলিভারি বিলম্ব ও ক্ষতিগ্রস্ত পার্সেলের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে। (The Business Standard)

৩০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস বাংলাদেশের সবচেয়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক-সম্পন্ন কুরিয়ার কোম্পানিগুলোর একটি। ৬০০-রও বেশি আউটলেটের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সেবা দেওয়ার দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি। (Think Bengal) এত বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকসেবার মান নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

অভিযোগ ও অনুসন্ধানের জন্য সুন্দরবন কুরিয়ারের হটলাইন নম্বর ০৯৬১২-০০৩০০৩ হিসেবে দেওয়া আছে। (Facebook) তবে একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, এই নম্বরে ফোন করলেও কেউ সাড়া দেন না।

এ বিষয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী, পণ্য বা সেবা প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুরিয়ার খাতে জবাবদিহিতার কার্যকর কাঠামো না থাকায় গ্রাহকরা প্রতিকার পেতে বারবার বাধার মুখে পড়ছেন।