স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘদিনের বেতন ও নিরাপত্তা সংকটের প্রতিবাদে আজ রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। ময়মনসিংহের এই কর্মসূচি দেশজুড়ে একযোগে চলমান ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালীন কর্মবিরতির অংশ।
মাঠের চিত্র
সকাল থেকেই আন্দোলনকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে তাঁরা ছয় দফা দাবি সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি কলেজ প্রশাসনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাবর পেশ করেন। প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে সংহতি জানাচ্ছেন। কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগে সেবা পেতে রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ময়মনসিংহ মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসক ফয়সাল মাহমুদ (ব্যাচ: এম-৫৭) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “ডাক্তার ও রোগীদের জন্য সুন্দর একটা স্বাস্থ্যব্যবস্থা আমাদের মৌলিক অধিকার। প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা বাইরে চলে যায় শুধুমাত্র এই স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশার কারণে।” তিনি আরও জানান, সরকারকে যেকোনো সহায়তায় চিকিৎসক সমাজ প্রস্তুত রয়েছে।
ছয় দফা: দাবির বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট
আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের দাবিগুলো মূলত বেতন কাঠামো, পেশাগত ফি, নীতিমালার বৈষম্য এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। প্রথম দাবিতে এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি ট্রেইনিদের পদায়ন-সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রস্তাবনা বাতিলের কথা বলা হয়েছে, যাকে চিকিৎসকরা সরকারি-বেসরকারি বৈষম্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন। দ্বিতীয় দাবিতে বিএমডিসি, বিসিপিএস এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও ভর্তি ফি সম্প্রতি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে তা ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার দাবি করা হয়েছে।
তৃতীয় দাবিতে বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণ এবং বেসরকারি পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনিদের ভাতা নবম গ্রেডের সমমর্যাদায় নিয়মিত পরিশোধের কথা বলা হয়েছে। চতুর্থ দাবিতে কর্মস্থলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে “স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন” প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। পঞ্চম দাবিতে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে আবেদনের বয়সসীমা সাধারণ ক্যাডারের চেয়ে দুই বছর বাড়িয়ে ৩৪ বছরে পুনর্বহালের কথা বলা হয়েছে, যা আগে কার্যকর থাকলেও পরে পরিবর্তন করা হয়। ষষ্ঠ দাবিতে ২০০৬ সালের শ্রম আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট ন্যূনতম বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি রাখা হয়েছে।
পরবর্তী কর্মসূচি
আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সরকার অনতিবিলম্বে আলোচনায় না বসলে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর উভয় বিভাগের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: আন্দোলনকারী চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ের তথ্য।
