জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে ২৫ তারিখ ঘটে যাওয়া আপত্তিকর ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরিবহন সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক তীর্থ বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষায় প্রকাশ করলে একে একে বহু ভুক্তভোগী নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অনেকে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক বাস চালুর দাবি জানান। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা পরিবহন প্রশাসনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দেয়।

স্মারকলিপিতে পরিবহন ব্যবস্থায় নারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুরক্ষিত চলাচলের পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পরে পরিবহন প্রশাসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার ভিত্তিতে দুইটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়

১) বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে শ্লীলতাহানি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে।
২) নারী যাত্রী সিট পরিবর্তনের অনুরোধ করলে তা তাৎক্ষণিক ও বাধাহীনভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

স্মারকলিপি প্রদানকারীদের একজন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইসমাইল হোসেন বলেন,
“নারী শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেই শ্লীলতাহানির শিকার হয় এটা আমরা কোন অবস্থান থেকে গ্রহণ করব? আমরা কঠোর ব্যবস্থার দাবিতে একত্র হয়েছি।”

একই বিভাগের শিক্ষার্থী তীর্থ বলেন,
“কমেন্টস ও ম্যাসেজ দেখে বুঝেছি বহু ভুক্তভোগী এতদিন চুপ ছিলেন। এসব নরকীটদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই। নারীদের জন্য আলাদা বাসের দাবিও এখন সময়ের প্রয়োজন নারী শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এই দাবি তুলছেন।”

শিক্ষার্থীদের দাবি, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থায় নারীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।