গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে যাওয়া একটি নৌবহর আটক করার পর, বিশ্বজুড়ে আলোচিত পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ১৭০ জনেরও বেশি মানবাধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরায়েল। আটককৃত এই কর্মীরা “গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা” নামে একটি অভিযানের অংশ ছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া।
ইসরায়েলি নৌবাহিনী দাবি করেছে, তারা নিরাপত্তাজনিত কারণে এই নৌবহরকে থামিয়ে দেয়। আটককৃত কর্মীদের গাজার জলসীমা থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে—বিশেষ করে গ্রিস ও স্লোভাকিয়ায়—ফেরত পাঠানো হয়। কর্মীদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন দেশের নাগরিক, যেমন সুইডেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি।
মুক্তি পাওয়ার পর অনেক কর্মী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আটকাবস্থায় ঘন্টার পর ঘন্টা হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়, খাবার দেওয়া হয়নি এবং অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা হয়।
গ্রিসে পৌঁছে গ্রেটা থুনবার্গ সাংবাদিকদের বলেন, “ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, অথচ বিশ্বের বড় নেতারা নীরব দর্শক।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে এই আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায় যে, আটককৃতদের আইনি অধিকার সংরক্ষিত ছিল এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে “রাজনৈতিক নাটক” হিসেবে দেখা উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিতর্কই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকেও আরও জটিল করে তুলেছে।
