নোমাইনুল ইসলাম, বাঘাইছড়ি : খাগড়াছড়িতে ধর্ষণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এতে অন্তত কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করেছে। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সকলকে শান্ত ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণীর এক জুম্ম কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে “জুম্ম ছাত্র জনতা” ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ডাক দেয়।
অবরোধ চলাকালে পিকেটারদের সাথে স্থানীয় কিছু বাঙালির সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে তা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জুম্ম ও বাঙালিদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত বাঙালিরা মহাজনপাড়া ও খেজুরবাগানে জুম্ম ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।
সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। উত্তেজনা বেড়ে গেলে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন দ্রুত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। পরবর্তীতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সন্ধ্যা ৭টার দিকে য়ংড বৌদ্ধ বিহারের পাশে আবারও জুম্ম ও বাঙালিদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এসময় ধারালো দা’য়ের আঘাতে দুই জুম্ম যুবক গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।
এ ঘটনার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) লিখিত বিবৃতি দিয়ে ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার বিভাগের সদস্য জুপিটার চাকমা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়—
পাহাড়ে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। সিঙ্গিনালার ঘটনায় জড়িত ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় তারা।
একইসাথে আজকের সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জনসংহতি সমিতি প্রশাসনের প্রতি যথাযথ নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি বিবৃতিতে উল্লেখ করে, দেশের বর্তমান বাস্তবতা এবং সামনে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে জুম্ম ও বাঙালিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি বিনষ্ট না করার জন্য উভয় পক্ষকে শান্ত, ধৈর্যশীল ও সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।
